জেএসইউএসের উদ্যোগে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন

কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একীভূত সমাজভিত্তিক মানসিক সেবা উন্নীত করার উদ্দেশ্যে বছরব্যাপি “কোভিড ১৯ প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন” শীর্ষক একটি প্রকল্প নগরীর ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ডে উন্নয়ন সংগঠন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত জাতীয় সংগঠন সিডিডি’র কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করছে।

জেএসইউএস’র দুজন স্বেচ্ছাসেবকের স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উক্ত ওয়ার্ডসমূহে মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ, সমস্যা নিরূপন, এ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজন, সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিদের বিনামূল্যে কাউন্সিলিং সেবা প্রদান এবং উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে রেফারেল সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার করা হচ্ছে।

এ বছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেএসইউএসের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় । দিবসের শুরুতে নগরীর পাথরঘাটা ওয়ার্ডস্থ ব্রিক ফিল্ড রোড এবং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড কার্যালয়ে মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি, তাদের পরিবারের সদস্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার লোকজনের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন, প্রকল্পের পিয়ার রেসপন্ডার নয়ন মজুমদার ও তানজিনা আক্তার, এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিএম মো: রুবেল ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এসডিপি) আরিফুর রহমান।  

এ প্রসঙ্গে সংস্থার ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ও পরিচালক কবি প্রাবন্ধিক সাঈদুল আরেফীন বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে মানুষের যেমন কর্মশক্তি হ্রাস পায় তেমনি মানসিক অবসাদগ্রস্থতা কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা জরুরি। বর্তমানে করোনা মহামারির এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিবারের সদস্য, সমাজের নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।”

জেএসইউএস প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এসডিপি) ও প্রকল্পের ফোকাল পার্সন আরিফুর রহমান বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। তাছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে প্রচুর মানুষ চাকরি হারিয়েছে। যার ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় নিজেদের মন ভাল রাখার জন্য একে অন্যের পাশে থাকা জরুরী। কেউ মনের রোগে ভুগলে তার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে আমাদের সবাইকে।”

সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য মতে, দেশে মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা বেশি। চিকিৎসাসেবা অবহেলিত বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আক্রান্তরা এ রোগে চিকিৎসা তেমন পান না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকারি সুপরিকল্পিত নীতিমালা, প্রশিক্ষিত মনোরোগ চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্যকর্মী, অপর্যাপ্ত অর্থবরাদ্দ ও কুসংস্কারজনিত কারণে মানসিক রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। করোনাকালে মানসিক রোগের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।