স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশে যেতে হলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

আমি এডুকেশন সেক্টর নিয়ে খুবই আগ্রহী। শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই উন্নত বাংলাদেশের রূপকার হলেন আপনারা। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আজকে আপনারা যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন তাদেরকে চ্যালেঞ্জের সাথে কাজ করতে হবে। কারণ ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেক সুন্দর ও সহজ হয়ে উঠবে।

গত ৩১ মে ২০২২ সকাল ১০ ঘটিকা SDG4SF, ESP এবং 8th FYP-এ শিক্ষা সেক্টর সম্পর্কে নির্দেশিত নীতি ও কৌশল সম্পর্কিত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্ম প্রক্রিয়া গ্রহণে সহায়তা করার উদ্দেশ্য নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান ও ইউনেস্কো ঢাকা অফিসে আয়োজনে এবং স্থানীয় আয়োজক সংস্থা জেএসইউএস’র ব্যবস্থাপনায় নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (যুগ্ম সচিব) প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য রাখেন।

জনাব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টশন ওয়ার্কসপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর হোসাইন আহমেদ আরিফ এলাহী, পরিচালক, আঞ্চলিক কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম ও ড. মো: শফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা), আ.ন.ম তরিকুল ইসলাম, ডেপুটি সেক্রেটারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা জেএসইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের চীফ অব এডুকেশন হুহুয়া ফেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো: শফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরো বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দের ব্যাপারে ভাবতে হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশে যেতে হলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উন্নয়ন সংগঠক জালাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় দু-পর্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার প্রথম পর্বে, মূল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশান উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব জনাব শ্যামল কান্তি ঘোষ, কনসালটেন্ট ড. জিয়াউস সবুর এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের ডেপুটি ডিরেক্টর কে.এম. এনামুল হক।

এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দসহ ইউনেস্কো ঢাকা অফিস এবং গণসাক্ষরতা অভিযান এবং জেএসইউএস’র কর্মকর্তাবৃন্দ।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে দলভিত্তিক কাজের উপস্থাপনা শেষে ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার শিরিন আক্তার এবং জেএসইউএস ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কবি প্রাবন্ধিক সাঈদুল আরেফীন অভিমত ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এখানে উল্লেখ্য, এসডিজি ঘোষণার অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০৩০-এর মধ্যে এ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। তাই এসডিজি’র সফল বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্য ৪- সবার জন্য একীভূত এবং সাম্যভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ প্রসার (Ensure inclusive and equitable quality education and promote lifelong learning for all)-কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা পরিকল্পনা ও শিক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। তাহলে প্রকৃত শিক্ষায় সুশিক্ষিত এবং দক্ষ জনগোষ্ঠীই পারবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতে এবং জাতিসংঘে গৃহীত এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্যে অর্জনে সক্ষম হবে।